শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬

সাইটে অপচয় রোধে করণীয়


নিজেকে একবিংশ শতাব্দীর একজন দক্ষ প্রকৌশলী গড়ে তুলতে নিজেক আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা জরুরি। এই প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়ার মহান প্রয়াসে civilengineeringctg এর যাত্রা শুরু...

সাইটে অপচয় রোধে করণীয়

সাইটে ড্রয়িং ও ডিজাইনের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।
সঠিক ভাবে মালামাল রিসিভ ও issue করতে হবে।
কাজের শেষে মালামাল গুলি সঠিক স্থানে গুছিয়ে রাখতে হবে।
স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
First in First out রোল মেনে গোডাউন হতে মালামাল আউট করতে হবে।
ব্রিক ওয়াল ও প্লাস্টারের স্থান অবশ্যই পরিষ্কার থাকতে হবে।
আর,সি,সি সারফেস সমতল থাকতে হবে।
ব্রিক সারফেস সমতল থাকতে হবে।
কাটপিছ রড স্টোরে রাখতে হবে।
খালি সিমেন্ট ব্যাগ, খালি রং এর পট, পিভিসি পাইপ এর কাটপিছ ইত্যাদি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে।
লাইট ও ফ্যান ইত্যাদি বিনা কারণে চালু রাখা যাবে না।
পাম্প চালু করে পাইপ দিয়ে গোসল না করে ড্রামে পানি নিয়ে গোসল করতে হবে।
মিটার রিডিং এর জন্য ডেইলি রেজিস্টারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
অতিরিক্ত মালামাল মেঝের যেখানে সেখানে ফেলে রাখা যাবে না। যেমন: ইট, বালি, সিমেন্ট ব্যাগ ইত্যাদি।
শেষ বেলার দিকে মর্টার বা কংক্রিট হিসেব করে বানাতে হবে যাতে অতিরিক্ত না হয়।
বার সিডিউল করে রড হিসাব করে কাটতে হবে।
মর্টার তৈরির সময় সামনে থাকতে হবে।
প্রতিদিনের ম্যাটেরিয়ালস এর হিসাব প্রতিদিন করতে হবে।
গোডাউনের নিরাপত্তা পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকতে হবে।
দক্ষ লোকবল দিয়ে কাজ করতে হবে।

অতত্রব অপচয় রোধে উপরোক্ত পয়েন্ট গুলো একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ার কে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। মেনে না চললে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা কোনভাবেই কাম্য ন।।

কংক্রিট স্লাম্প পরীক্ষা


কংক্রিট এর মধ্য ধারাবাহিকতা বা সমসত্ত্বতা যাচাই এর জন্য এই পরীক্ষা করা হয়।এই পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হয় যে, কংক্রিট এর কার্যউপযোগীতা কতটুকু। স্ল্যাম্প এর পরিমান অবশ্যই নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকবে।

স্ল্যাম্প পরীক্ষায় ব্যবহুত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি:
স্ল্যাম্প কৌণ (উপরের ব্যাস ১০০ মি:মি: x নিচের ব্যাস ২০০ মি:মি: x উচ্চতা ৩০০ মি:মি: )

ছোট কুর্ণী

গুলি-মুখ রড ( ৬০০ মি:মি: লম্বা x ১৬ মি:মি: সাইজ)

স্কেল

স্ল্যাম্প প্লেট (৫০০ মি:মি: x ৫০০মি:মি:)

স্ল্যাম্প পরীক্ষার ধাপগুলি:

১. কৌণটি পরিস্কার করতে হবে। পানি দিয়ে ভালভাবে মুছে স্ল্যাম্প প্লেট এর উপর রাখতে হবে। স্ল্যাম্প প্লেট অবশ্যই পরিস্কার, শক্ত , সমতল এবং অ-শোষণীয় হতে হবে।

২. পরীক্ষার জন্য প্রয়োনীয় পরিমান কংক্রিট নিতে হবে (যেই কংক্রিট পরীক্ষা করতে হবে তা থেকে)

৩. পাদানির উপর শক্তভাবে দাড়াতে হবে এবং তিন ভাগের একভাগ কংক্রিট দিয়ে ভরাট করতে হবে। ২৫ বার রড দিয়ে ভালভাবে গুতা দিতে হবে। গুতা সবসময় একই ভাবে দিতে হবে এবং তা হতে হবে বাইরের দিক থেকে মাঝার দিকে।

৪. আবার দ্বিতীয় ভাগ ভরাট করতে হবে এবং ৩ নং ধাপের মত করে রড দিয়ে গুতা দিতে হবে। বে খেয়ার রাখতে হবে যে এবার রড প্রথম ভাগের উপর পর্যন্ত যাবে, এর নিচে না।

৫. এবার বাকি অংশ ভরাট করতে হবে উবু-উবু করে এবং আগের মত রড দিয়ে গুতা দিতে হবে। তবে খেয়ার রাখতে হবে যে এবার রড দ্বিতীয় ভাগের উপর পর্যন্ত যাবে, এর নিচে না। উবু অংশ ফেলে দিয়ে মাথা কৌণ এর সমান করে দিতে হবে।

৬. গড়ানো পদ্ধতিতে রড দিয়ে উপরিতল সমান করতে হবে। স্ল্যাম্প প্লেট এর উপর কোন ময়লা থাকলে তা পরিস্কার করতে হবে। হাতল চাপদিয়ে ধরে পাদানি থেকে নেমে পড়তে হবে।

৭. সাবধানে কৌণটি সোজা উপরে ওঠাতে হবে যাতে করে এর ভেতরের কংক্রিট নড়ে না যায়।

৮. কৌণটি উল্টে ফেলে কংক্রিট এর পাথে রাখতে হবে। রডটি কৌণ এর উপ কংক্রিট এর দিকে মুখ করে বসাতে হবে।

৯. কংক্রিটটির সর্বোচ্চ তলা থেকে রড এর তলা পর্যন্ত মাপ নিতে

পানির স্তর ও সিপেজ চাপ নিয়ন্ত্রণ


অনেকেই বলে থাকেন মাটির ভেতর যদি পানি না থাকত তাহলে সয়েল মেকানিক্স বিষয়টি পড়বার দরকার পড়তো না। দেখা যায় মাটির ধারণ ক্ষমতা, সেটেলমেন্ট, সিপেজ, পাইল ডিজাইন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পানি একটি মুখ্য ভূমিকা রাখে। আসলেই কি তবে মাটির ভেতরকার পানি প্রকৌশলীদের বিরক্তির কারণ? মাটির মধ্যে পানি না থাকলেই ভাল হতো? এ প্রশ্ন অবান্তর। কারণ পানির অপর নাম জীবন। পানি না থাকলে গাছ-পালা, শষ্য, প্রাণীজীবন কিছুই বেচে থাকত না। তাই মাটির ভেতর পানি থাকবেই আর সেই পানি কে আমলে নিয়ে বা নিয়ন্ত্রণ করাই প্রকৌশলীদের কাজ।

ঢাকা শহরে এখন মাটির নিচে একতলা থেকে শুরু করে পাচ তলা ভবন পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে যাকে বেজমেন্ট বলা হয়। বেজমেন্ট নির্মাণের সময় যখন মাটি কেটে গর্ত বানানো হয় তখন দেখা যায় মাটির চারপাশ থেকে এমন কি নিচ থেকেও পানি চুইয়ে চুইয়ে আসছে। এই পানি চুইয়ে আসা কে প্রকৌশলবিদ্যায় সিপেজ বলে। ঢাকার মাটির রিপোর্টে দেখা যায় যে প্রায় ১৫-২৫ ফুট পর্যন্ত লাল এটেল মাটি বা ক্লে সয়েল পাওয়া যায় এরপর আরও ২০-৩০ ফুট বালি মাটি বা স্যান্ডি সয়েল পাওয়া যায়। বালি মাটির মধ্যে পানি থাকলে তার সিয়ার স্ট্রেন্থ থাকেনা এ অবস্থা কে লিকুইফ্যাকশন বলা হয়। অনেক সময় দেখা যায় মাটি প্রোটেকশনের জন্য যে শোর পাইল করা হয় তার ফাক দিয়ে বালি সহ পানি বেজমেন্টের জন্য তৈরি করা গর্তের মধ্যে চলে আসে। যার ফলে আশেপাশের রাস্তা বা ভবনের নিচ থেকে যদি মাটি সরে যায় তাহলে ঐ রাস্তা বা ভবনের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও প্রকল্পের ভিতর পানি আসলে প্রকল্পের কাজেও বেশ সমস্যা হয় যেমনঃ কাদামাটির ভেতর ঢালাই করলে ঢালাই এর কোয়ালিটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, প্রকল্পের ভেতর মাটি ভেঙ্গে আসে, শ্রমিকদের হাটাচলা অসুবিধা, ভেজা মাটির মধ্যে কাজ করার জন্য নিরাপত্তাজনিত ও অসুস্থতাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রকৌশলীদের সিপেজ এবং মাটির মধ্যে পানির স্তর নিয়ন্ত্রন করার প্রয়োজন হয়।

সিপেজ পানির প্রবাহ সাধারণত দুই রকমের হয়ে থাকে একটিকে বলা হয় আর্টেসিয়ান প্রবাহ আর অপরটিকে গ্রাভিটি প্রবাহ। যদি বালি মাটির উপরে ও নিচে এটেলমাটি বা শিলা থাকে তাহলে পানি প্রবাহ সাধারণত সেদিকেই হতে থাকবে যেদিকে মাটি বা পানি চাপ কম হবে এই ধরণের প্রবাহ কে আর্টেসিয়ান প্রবাহ বলে। এই প্রবাহে পানির চাপ বেশি থাকে। অনেকসময় ভিত্তি তলের জন্য নির্মিত লীন কঙ্ক্রীট ভেংগে পানি ভিত্তি তলের উপরে চলে আসে। অপরদিকে, কোনো জায়গায় যদি গর্ত খোড়া হয় আর পানির স্তর যদি ঐ গর্তের তলের উপরে থেকে তখন উচ্চতার পার্থক্যের জন্য এবং মাধ্যাকর্ষণজনিত কারণে পানি গর্তের গা বেয়ে চুইয়ে চুইয়ে পড়তে থাকে এই ধরণের প্রবাহ কে গ্রাভিটি প্রবাহ বলে। এই প্রবাহের কারণে বালি মাটিসহ পানি গর্তের মধ্যে আসতে থাকে। এই প্রবাহ কে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। নিচে পানির স্তর এবং সিপেজ নিয়ন্ত্রনের কয়েকটি উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

১) ভিত্তি তল বা ফাউন্ডেশন লেভেলের নিচে ছোট গর্ত করাঃ যদি প্রকল্পের আকার ছোট হয় এবং একটা বা দুইটা বেজমেন্ট হয় তাহলে এই পদ্ধতি বেশ কাজ করে। এখানে প্রকল্পের মাটি অপসারণের সময় ভিত্তি তলের চারপাশ দিয়ে ছোট নালা করা হয় এবং এই নালাগুলো বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা কয়েকটি ছোট ছোট গর্তের সাথে সংযোজিত করা হয়। ফলে পানি সবসময় একটি নির্দিষ্ট পথে চালিত হবে, গর্তের মধ্যে জমা হবে। পরে পাম্প দিয়ে পানিকে প্রকল্পের বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে। এতে করে পানি ভিত্তি তলের উপরে আসতে পারবেনা এবং ভিত্তি তল শুকনা থাকবে।

২) প্রকল্পের চারপাশে নলকুপ বসানোঃ যদি প্রকল্পের আকার মাঝারি হয় এবং দুইটা বা তিনটা বেজমেন্ট থাকে তাহলে প্রকল্প শুরু করার প্রায় তিন-চার মাস আগে থেকে শোর পাইলের বাইরে ১০-২০ ফুট দূরে দূরে কিছু নলকুপ বসানো যায়। ৩/৪ টি নলকুপের রাইজার পাইপ একত্র করে তার সাথে পাম্প লাগিয়ে সার্বক্ষনিকভাবে পানি উত্তোলন করা যায়। এতে করে ওই প্রকল্পের চারপাশে পানির স্তর ভিত্তি তলের নিচে নেমে যেতে থাকে। ফলে সিপেজ পানির চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

৩) প্রকল্পের চারপাশে গভীর কুপ খননঃ যদি প্রকল্পের আকার বড় হয় এবং তিনটি বা তার অধিক বেজমেন্ট থাকে তখন প্রকল্প শুরুর ৬/৭ মাস আগে থেকে প্রস্তুত হতে হবে সিপেজ পানি নিয়ন্ত্রন নিয়ে। প্রকল্পের চারপাশে খালি জায়গায় শোর পাইলের বাইরে বড় বড় গভীর কুপ খনন করা প্রয়োজন এবং এই কুপগুলি থেকে সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে পানি লাগাতার ভাবে উত্তোলন করতে হবে। যাতে করে প্রকল্পের আশেপাশের সমস্ত এলাকা জুড়ে পানির স্তর ভিত্তি তলের নিচে থাকে। পুনরায় মাটি পরীক্ষা করে পানির স্তর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে প্রকল্পের মাটি কাটা শুরু করতে হবে।

পানির স্তর নিচে নামিয়ে আনা বা সিপেজ পানির চাপ নিয়ন্ত্রন করতে পারলে প্রকল্পের অনেক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

কংক্রিট স্ল্যাব
সংজ্ঞা:

কলাম আথবা দেয়াল এর উপর অবস্থিত সমতল এবং চ্যাপ্টা বস্তু। এটি হাটা চলাফেরার এবং ভার বহনকারী হিসাবে ব্যবহূত হয়।

কংক্রিট এর কাজ:

*সমতল পৃষ্ঠ দেয়া
*ভার বহন করা
*শব্দ, তাপ এবং অগ্নি প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করা
*উপরের স্ল্যাব নিচের তলার সিলিং হিসাবে পরিচিত
*স্ল্যাব এবং সিলিং এর মধ্যবর্তী অংশ বিল্ডিং এর উপযোগী অংশ

স্ল্যাব ডিজাইন এ বিবেচিত বিষয়

কাঠামোর অনুভূমিক লোড এর জন্য দেয়াল এর অবস্থান নির্ণয় নির্ধারণের জন্য

বিল্ডিং এর দৃঢ়তা কেন্দ্রে হতে হবে

সল্প ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় এর জন্য ডিফলেকসিয়ন বা ঝুলে যাওয়ার প্রবণতা হিসাব করা। সাধারনত পূর্ণ ভারে ঝুল হয় δ) < L/২৫০ or ৪০ এমএম এর মধ্যে যেটি ছোট।

রোডের স্পেসিং এর ভিত্তি করে ক্রাক বা ফাটল হিসাব করা ভাল।

রোডের সঠিক ডিটেইলিং বা স্থাপন সাহায্য করবে
ফাটল গ্রহণ যোগ্য মাত্রায় রাখতে

ভবিষ্যত রক্ষণাবেক্ষণ এর খরচ কমাতে

কোংকরিত এর যেখানে পাংচিঙ্গ শিয়ার হবার সম্বাবনা আছে সেখানে রড বেশি ও কোংকরিত মোট হতে হবে। প্রান্তে শিয়ার ক্ষমতা বাড়াতে শিয়ার স্টুড্স অথবা স্টিরাপ কেইজ দিতে হবে।
অনুভূমিক দৃঢ় হতে হবে।কংক্রিট স্ল্যাব

এষ্টিমেট সম্পর্কিত কথা


এষ্টিমেট সম্পর্কিত কথা
প্রস্তাবিত প্রকল্পের এষ্টিমেট করা বেশ জটিল, করব এখানে অনেক বিষয় জড়িত থাকে। সঠিক পর্যালোচনা, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ভাল প্রকৌশলী হওয়া যায়। প্রকল্পের মূল্য নির্ধারণে বিভিন্ন বিভাগ মুখ্য ভূমিকা রাখে। একজন ভাল এষ্টিমেটর এর এইগুলি সম্পর্কে জানতে হবে এবং সাবধান হতে হবে।

এষ্টিমেট চূড়ান্ত করার পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে দেয়া হল।

১) অনুরূপ প্রকল্প: একই ধরনের প্রকল্প থেকে ধরণ থেকে নিয়ে এসটিমেট করলে খুব ফলপ্রসূ হয়। অনুরূপ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

২) উপাদানের দাম: মালামলের ভরসাপুর্ণ দাম জানতে হবে । একই সাথে খেয়াল রাখতে হবে যে মালামালের পরিবহন খরচ কেমন হবে।

৩) মজুরি: মজুরি খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মালামালের স্থানীয় দাম জানতে হবে। একই সাথে জানতে হবে সরকার বা উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্ধারিত মূল্য।

৪) সাইট এর অবস্থা: সাইট এর অবস্থার উপর প্রকল্প ব্যয় নির্ভর করে। যেমন খারাপ মাটি, বেজ মাটি, আবর্জনা, সার্ভিস লাইন ইত্যাদি।

৫) মুদ্রাস্ফীতি: মুদ্রাস্ফীতি খুব বড় রকম প্রভাব রাখে। প্রকল্প সময় এবং মুদ্রাস্ফীতির হার এর সমন্বয়ে এসটিমেট করতে হবে।

৬) দরপত্রের সময়: দরপত্রের সময় একটি ভাল ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন মৌসুমে দরপত্রের কারণে প্রভাব বিভিন্ন রকম হয়।

৭) প্রকল্প সময়সূচি: সিড্যিউল এর উপর মূল্য বলভাবে নির্ভর করে। যেমন খুব কম সময়ে করতে হলে তুলনামূলক বেশি খরচ হবে। আবার সাধারণ সময় এর চেয়ে বেশি সময় লাগলেও খরচ বেড়ে যায়। কেননা এর সাথে মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মচারী খরচ বেড়ে যায়। প্রকল্প শুরুর বেশি পূর্বে দরপত্র করলেও দাম বাড়তে পারে (এতে করে কনট্রাকটর কারণ দেখিয়ে দাম বাড়বে)

৮) মানসম্মত প্লান এবং স্পেসিফিকেশন : বলভাবে তৈরি প্ল্যান এবং বিশদ বর্ণনা ছাড়া ভাল এসটিমেট করা অসম্ভব। এতে করে কনট্রাকটর দের বুঝতে অসুবিধা হয় এবং পরবর্তীতে ঝামেলা হয়। যার কারণে এসটিমেট ভাল হয় না।

৯) প্রকল্প প্রকৌশলীর সুনাম : যদি প্রকৌশলীর বা প্রতিষ্ঠানের খুব ভাল সুনাম থাকে তাহলেও প্রকল্প ব্যয় পার্থক্য হয়। কনট্রাকটর এয়ের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকলেও কাজ করতে সুবিধা হয় এবং কংত্র্ক্টর কম দামে দরপত্র দেয়। উভয়ের মধ্যে ভাল সম্পর্ক থাকলেই অল্প সময়ে প্রকল্প সুন্দর ভাবে শেষ করা সম্ভব। যায় ব্যয় এর উপর প্রভাব ফেলে।

১০) অনুমোদিত এজেন্সি: যদি কোনও প্রতিষ্ঠান তহবিল প্রদান করে থাকে তখন খরচ কিছুটা বারে। কেননা এতে করে দলীলাদি বা কাগজপত্র বেশি করতে হয়। যা মোট খরচের উপর প্রভাব ফেলে।

১১) নিয়ন্ত্রণ সংস্থা: কখনো কখনো নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কর্তৃক অনুমোদন নিতে হয়। তাই বিষয়গুলি খেয়াল রাখতে হবে। কেননা এখানেও অনেক খরচ হয়।

১২) বীমা প্রয়োজনীয়তা : যদি বিমার প্রয়োজন হয় তাহলেও এটি হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

১৩) প্রকল্পের আকার: প্রকল্পের আকার এবং জটিলতার উপর নির্ভর করে যে স্থানীয় কনট্রাকটর এটি করতে পর্বে কী পর্বে না। যার কারণে একটি বড় অংশ নির্ভর করে এর উপর।

১৪) কাজের স্থান : কাজের স্থানের উপর এও নির্ভর করে। এবং এর প্রভাব বড়। যেমন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাল মজুর পাওয়া যায়না। আবার বেইসি খরচপূর্ণ এলাকাতে মজুর খরচ বা অন্য জিনিস এর দাম বেশি। আবার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবহন খরচ বেশি।

১৫) উপকারিতা যাচাই করানো : বড় বড় প্রকল্প করার সময় সাধারনত এর উপকারী যাচাই করে নিতে হয় কোনও নিয়োজিত সংস্থা কর্তৃক। তাই এটাও জেনে নিতে হবে এবং যদি এর প্রয়োজন হয় তাহলে এটি হিসাব করে এসটিমেট করতে হবে।

১৬) অনিশ্চয়তা: কিছু বিষয় থাকে যা অনেক সময় হিসাব থেকে বাদ পড়ে যায়। তাই নিরাপত্তার জন্য মোট খরচের ১০ শতাংশ অতিরিক্ত হিসাব করা হয়।

১৭) অধিক তদন্ত : কিছু প্রকল্প সাইট এর অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন পরথে পারে। যেমন পরিবহন ব্যবস্থা, রাতে কাজ করার অবস্থা, চাদবাজি ইত্যাদি।

১৮) রায়: সর্বশেষ এসটিমেট করা হয় বিচক্ষণতা, অভিজ্ঞতা বিচারে। অনেক সময় অভিজ্ঞতা থেকে মোট এসটিমেট এর উপর কিছু অতিরিক্ত ধরে এসটিমেট করা হয়।

কোয়ালিটি বা গুনগত মান


কোয়ালিটি বা গুনগত মান
ক) কনস্ট্রাক্শন এর পুর্বে :

সয়েল টেষ্ট বা মাটি পরিক্ষা: ভাল জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা মাটি পরিক্ষা করাতে হবে। কেননা এই পরিক্ষার উপর ভিত্তি করেই ইঞ্জিনিয়ার পরবর্তিতে ডিজাইন করবেন।
পানি টেষ্ট: কনস্ট্রাকশন কাজে যেই পানি ব্যবহার করা হবে তা অবশ্যই পরিক্ষা করে নিতে হবে। কেননা পানির গুনাগুনের উপর কংক্রিট এর গুনাগুন নির্ভরশীল।
পোকা-মাকড়: শুরুতেই যদি পোকা-মাকড় নিয়ন্ত্রন না করা যায় তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
খ) আর সি সি :

ডিজান ইঞ্জিনিয়ার প্রতিটি কাজের ধাপ গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করবেন এবং স্বাক্ষর দিবেন।
কংক্রিট এর সুষম মিশ্রন হতে হবে।
কংক্রিট ল্যব টেষ্ট করতে হবে নিয়মিত (সিলিন্ডার টেষ্ট)।
আর সি সি কাজে অবশ্যই ভাইব্রেটর ব্যবহার করতে হবে এবং এই ব্যবহার হতে হবে সঠিক।
সাটারিং অবশ্যই সময়ের আগে খোলা যাবে না।
কংক্রিট এর কিউরিং সঠিক সময়ে এবং সঠিকভাবে করতে হবে।
গ) ব্রিক ওয়ার্ক ও প্লাস্টার

শুকনা ইট ব্যবহার করা যাবে না। ভেজা ইট ব্যবহার করতে হবে।
১.২ মিটার এর বেশি উচ্চতায় একদিনে ইটের দেয়াল করা উচিৎ নয়।
৫ ইঞ্চি দেয়াল এর ক্ষেত্র প্রতি ৩.৫ ফুট পর পর ৬ মিলি রড দেওয়া ভাল। এতে ক্র্যাক হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
জানালাতে সিল লেভেলে লিন্টেল ব্যবহার করা ভাল।
বিম এবং দেয়াল এর জয়েন্টে মর্টার সাথে ধাতু মিশ্রিত পানি প্রতিরোধক কেমিক্যাল ব্যবহার করা উচিৎ।
পাইপ এর উপর প্লাস্টার করার সময় চিকেন মেশ বা তার জালি ব্যবহার করতে হবে।.
ঘ) প্লাম্বিং

এমন উপাদান ব্যবহার করতে হবে যা সহজে ক্ষয় বা ছিদ্র হয় না।
প্রতিটি পাইপ এর প্রেসার বা চাপ শক্তি অবশ্যই পরিক্ষা করে নিতে হবে।
পানি প্রতিরোধী হতে হবে। অর্থাৎ পানি যেন চুইয়ে বাইরে না আসে সেদিকে খেয়ার রাখতে হবে।
বাথরুম বা গোসলখানা বা পায়খানাতে প্রয়োজনীয় স্লোপ বা ঢাল থাকতে হবে।
ঙ) ইলেকট্রিক

ব্র্যান্ড ক্যাবল ব্যবহার করতে হবে।
সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করতে হবে। যাতে করে দুর্ঘটনা না হয়।
আর্থিং করতে হবে।
লাইটেনিং এরেস্টার বা বজ্রপাত প্রতিরোধক ব্যবহার করতে হবে।
চ) কর্মদক্ষতা

দক্ষ কর্মি নিতে হবে।
সময় মত তদারকি করতে হবে
ছ) ভাল মানের মালামাল

ব্র্যান্ড মালামাল ব্যবহার করতে হবে
সব মালামাল গ্রহনের পুর্বে ভালভাবে পরিক্ষা করে নিতে হবে।

পাইল ক্যাপ চেইক লিষ্ট


পাইল ক্যাপ চেইক লিষ্ট

• পাইলের উপর থেকে দুর্বল কংক্রিট সরিয়ে ফেলুন

• শাটার এর সকল ছিদ্র বা ফাকা বন্ধ করতে হবে

• সব সাইট শলে (সঠিক উলম্ব) রাখতে হবে


• সাটার এর সাপোর্ট ভালভাবে চেইক করতে হবে যাতে করে সাটার ঢালাই এর সময় খুলে না যায় বা ঢালাই মোটা না হয়

• সাটারে কংক্রিট ঢালার লেভেল মার্কিং করতে হবে

• কলামের রডের আনুভুমিক সাপোর্ট কংক্রিট লেভেল এর উপরে থাকতে হবে

• ক্লিয়ার কভার ভালমত চেইক করতে হবে

• রড বাধাই এর তারের কোন অংশ যেন কংক্রিট কভারের মধ্যে না যায় খেয়াল রাখতে হবে
• কলাম রিং নিচে, মাঝে ও উপরে দিতে হবে। কংক্রিট এর চার ইঞ্চ উপরে একটি রিং দিতে হবে।

• কলামের রড শলে (উলম্ব/খাড়া) রাখতে হবে

• কংক্রিট ঢালার পুর্বে ভালভাবে পরিস্কার করতে হবে।